Thursday, August 11, 2016

কম্পিউটার সম্পর্কিত কিছু প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন-১. কম্পিউটার কী? কম্পিউটার যন্ত্রাংশ গুলো কি কি?
উত্তর: কম্পিউটার (Computer ) একটি ইলেকট্রনিক্স যন্ত্র। যাতে পূর্ব থেকে কিছু তথ্য দেয়া থাকে, যা ইনপুট ডিভাইস এর মাধ্যমে ইনপুটকৃত গাণিতিক ও যৌক্তিক ডাটা সমূহকে প্রসেসর দ্বারা প্রক্রিয়াকৃত সুনির্দিষ্ট আউটপুট প্রদান করে।
ইনপুট ইউনিট (Input Unit): যে ইউনিটের মাধ্যমে কম্পিউটারকে যাবতীয় তথ্য বা উপাত্ত প্রদান করা হয়, তাকে ইনপুট ইউনিট বলে। যেমন- * কীবোর্ড; * মাউস; * স্ক্যানার; * জয়স্টিক; * লাইটপেন; * ডিজিটাল ক্যামেরা; * পাঞ্চকার্ড রিডার; * অপটিকাল মার্ক রিডার; * অপটিকাল ক্যারেকটার রিডার এবং * পেপার টেপ রিডার।
কম্পিউটার সম্পর্কিত কিছু প্রশ্ন ও উত্তর

মেমরি ইউনিট (Memory Unit): যে ইউনিটে তথ্য সংরক্ষণ করা যায় এবং প্রয়োজনে উত্তোলন করা যায়, তাকে মেমরি ইউনিট বলে। যেমন- * হার্ডডিস্ক; * ফ্লপি ডিস্ক সিডি; * ডিভিডি এবং * ফ্ল্যাশ ড্রাইভ।
গাণিতিক ও যৌক্তিক ইউনিট (Arithmetic & Logic Unit): গাণিতিক ও যৌক্তিক ইউনিট যাবতীয় হিসাব যেমন: যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ ইত্যাদি কার্য সম্পন্ন করে।
নিয়ন্ত্রণ ইউনিট (Control Unit): এই অংশ কম্পিউটারের যাবতীয় কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে।
আউটপুট ইউনিট: যে ইউনিটের মাধ্যমে কম্পিউটার যাবতীয় ফলাফল প্রদান করে, তাকে আউটপুট ইউনিট বলে। যেমন- * মনিটর; * প্রিন্টার; * ভিজ্যুয়াল ডিসপ্লে; * ফিল্ম রেকর্ডার; * ¯পীকার এবং * মাইক্রোফোন।
প্রশ্ন-২. কম্পিউটারের কাজ লিখ।
উত্তর: কম্পিউটার নিম্নলিখিত ৪টি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। যথা-
* সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে ব্যবহারকারী কর্তৃক তৈরি প্রোগ্রাম কম্পিউটার গ্রহণ করে মেমরিতে সংরক্ষণ করে এবং
ব্যবহারকারীর নির্দেশে কম্পিউটার প্রোগ্রাম নির্বাহ করে;
* ইনপুট ডিভাইস-এর মাধ্যমে ডাটা গ্রহণ করে;
* ডেটা প্রসেস করে এবং
* আউটপুট ডিভাইস-এর মাধ্যমে ফলাফল প্রকাশ করে।
প্রশ্ন-৩.CPU ( সিপিউ ) কে কম্পিউটারের মস্তিস্ক বলা হয় কে?
উত্তর: কম্পিউটারের সাংগঠনিক অংশগুলোর মধ্যে সিপিউ (সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কম্পিউটারে কাজ করার সময় আমরা যে সব নির্দেশ দিয়ে থাকি সেগুলোর গাণিতিক বিশ্লেষণ, যুক্তিমূলক বিন্যাস, নিয়ন্ত্রণ এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ; এক কথায় যাবতীয় প্রক্রিয়াকরণের কাজ এই অংশে হয়ে থাকে। প্রাণির মস্তিস্ক যেমন যাবতীয় কাজ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দেহকে সচল রাখে, কম্পিউটার সিপিউ তেমনি যাবতীয় কর্মসম্পাদনের মাধ্যমে কম্পিউটারকে কার্যউপযোগী রাখে। এজন্য সিপিউকে কম্পিউটারের মস্তিস্ক বলা হয়।
প্রশ্ন-৪. কম্পিউটারের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য লিখ।
উত্তর: নির্ভুলতা, দ্রুতগতি, সুক্ষতা, যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত, বহুমূখীতা, মেমরি, স্বয়ংক্রিয়তা এবং সহনশীলতা।
প্রশ্ন-৫. কম্পিউটারের মৌলিক সীমাবদ্ধতা কী ? কম্পিউটারের কি চিন্তা শক্তি আছে?
উত্তর: কম্পিউটার একটি যন্ত্র মাত্র। এর চিন্তা শক্তি নেই, নেই বুদ্ধিমত্তা বা বিচার বিশ্লেষণ এবং বিবেচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা।
প্রশ্ন-৬. বিভিন্ন প্রজন্মের কম্পিউটারের বৈশিষ্ট্য সমূহ লিখ।
উত্তর: প্রথম প্রজন্ম (১৯৫১-১৯৫৯)
* আকারে বড় বিধায় প্রচুর তাপ উৎপাদনকারী;
* মেমরি অত্যন্ত অল্প;
* ভ্যাকুয়াম টিউব দিয়ে তৈরি;
* মেমরি চৌম্বকীয় ড্রামের;
* কোড ব্যবহার করে প্রোগ্রাম চালানোর ব্যবস্থা;
* এই কম্পিউটারের যান্ত্রিক গোলযোগ, রক্ষণাবেক্ষণ ও পাওয়ার খরচ বেশি এবং
* এই প্রজন্মের কম্পিউটারে যান্ত্রিক ভাষায় প্রোগ্রাম লিখা হত।
দ্বিতীয় প্রজন্ম (১৯৫৯-১৯৬৫)
* এটিতে মডিউল ডিজাইন ব্যবহার করে সার্কিটের প্রধান প্রধান অংশগুলো আলাদা বোর্ডে তৈরি করা যেত;
* অধিক নির্ভরশীল, অধিক ধারণক্ষমতা এবং তথ্য স্থানান্তরের সুবিধা;
* সাইজে ছোট, গতি বেশি এবং বিদ্যুৎ ও তাপ উৎপাদন কম;
* ট্রানজিস্টর দ্বারা তৈরি ও মেমরি চুম্বক কোরের এবং
* অ্যাসেম্বলি ভাষায় প্রোগ্রাম লিখা হত।
তৃতীয় প্রজন্ম (১৯৬৫-১৯৭১)
* বিভিন্ন প্রকার উন্নত মেমরি ব্যবস্থার উদ্ভাবন;
* ব্যাপক একীভূত বর্তনীর ব্যবহার;
* সাইজ ছোট বলে বিদ্যুৎ খরচ কম এবং
* উচ্চ ভাষা দিয়ে প্রোগ্রাম লিখা তৃতীয় প্রজন্মের কম্পিউটার থেকে শুরু হয়।
চতুর্থ প্রজন্ম (১৯৭১- বর্তমান)
* উন্নত চিপ এর ব্যবহার ও ক্ষুদ্রাকৃতির কম্পিউটার;
* বিশাল পরিমাণ মেমরি ও অত্যন্ত গতি এবং
* টেলিযোগাযোগ লাইন ব্যবহার করে ডাটা আদান-প্রদান।
পঞ্চম প্রজন্ম (ভবিষ্যৎ প্রজন্ম)
* এই ধরণের কম্পিউটার প্রতি সেকেন্ডে ১০-১৫ কোটি যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
* শব্দের মাধ্যমে যোগাযোগ করা যাবে। ফলে এই প্রজন্মের কম্পিউটার শুনতে পারবে এবং কথা বলতে পারবে।
* এই প্রজন্মের কম্পিউটারের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থাকবে। ফলে কম্পিউটার অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে তা সিদ্ধান্ত গ্রহণে
ব্যবহার করতে পারবে।
* ভিজুয়্যাল ইনপুট বা ছবি থেকে ডাটা গ্রহণ করতে পারবে।
প্রশ্ন-৭. অ্যাবাকাস কি?
উত্তর: অ্যাবাকাস হচ্ছে আড়াআড়ি তারে ছোট্ট গোলক বা পুঁতি লাগানো চারকোণা কাঠের একটি কাঠামো। এখনকার কম্পিউটারের মত অ্যাবাকাসও সংখ্যাকে সংকেত বা কোড হিসেবে বিবেচনা করে- কাঠামোতে তারের অবস্থান ও তারে পুঁতির উপস্থিতি সংকেত নিরূপন করে। খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০ সালে ব্যাবিলনে এটি আবিস্কার হয় বলে ধারণা করা হয়। অ্যাবাকাস দিয়ে সাধারণত যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ, বর্গ ও বর্গমূল নিরূপন করা যেত।
প্রশ্ন-৮. অ্যানালিটিক্যাল ইঞ্জিন কী?
উত্তর: চার্লস ব্যাবেজ ১৮৩৪ সালে যেকোন প্রকার হিসাবকার্যে সক্ষম এরূপ একটি হিসাব যন্ত্রের পরিকল্পনা শুরু করেন। যাতে প্রোগ্রাম নির্বাহ ও পাঞ্চকার্ডে হিসাবকার্যের নির্দেশসমূহকে সংরক্ষণের পরিকল্পনা ছিল। এই যন্ত্রটি অ্যানালিটিক্যাল
ইঞ্জিন নামে পরিচিত।
প্রশ্ন-৯. চার্লস ব্যাবেজ কে? কেন তাকে কম্পিউটারের জনক বলা হয়?
উত্তর: চার্লস ব্যাবেজ কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের অধ্যাপক। তিনি ১৮৩৪ সালে আধুনিক কম্পিউটারের মত নিয়ন্ত্রণ অংশ, গাণিতিক ও যৌক্তিক অংশ, স্মৃতি অংশ এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য সম্বলিত অ্যানালিটিক্যাল ইঞ্জিন নামে একটি মেকানিক্যাল কম্পিউটারের পরিকল্পনা করেছিলেন। চার্লস ব্যাবেজের এই যন্ত্রটি আধুনিক কম্পিউটারের পূর্বসূরি হয়ে আছে বলে চার্লস ব্যাবেজকে কম্পিউটারের জনক বলা হয়।
প্রশ্ন-১০. কাকে প্রথম কম্পিউটার প্রোগ্রামার হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং কেন?
উত্তর: ইংরেজ কবি লড বায়রনের কন্যা অ্যাডা অগাস্টাকে প্রথম কম্পিউটার প্রোগ্রামার হিসেবে বিবেচনা করা হয় । কারণ তিনিই আধুনিক কম্পিউটারের পূর্বসূরি অ্যানালিটিক্যাল ইঞ্জিন-এর জন্য প্রোগ্রাম রচনা করেন।
প্রশ্ন-১১. মেমরিতে রক্ষিত প্রোগ্রাম নির্বাহের ধারণা কে প্রদান করেন?
উত্তর: ১৯৪৫ সালে প্রখ্যাত গণিতবিদ জন ভন নিউম্যান সর্বপ্রথম মেমরিতে রক্ষিত প্রোগ্রাম নির্বাহের ধারণা প্রদান করেন।
প্রশ্ন-১২. কম্পিউটার আবিস্কার করেন কে ? কেন তাকে কম্পিউটারের আবিস্কারক বলা হয়?
উত্তর: কম্পিউটার আবিস্কার করেন হাওয়ার্ড এইচ একিন। যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও আইবিএম এর যৌথ উদ্যোগে এবং হাওয়ার্ড এইচ একিন-এর তত্ত্বাবধানে ১৯৪৩ সালে মার্ক-১ নামে একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল কম্পিউটার নির্মিত হয়। এজন্য হাওয়ার্ড এইচ একিন কে কম্পিউটারের আবিস্কারক বলা হয়।
প্রশ্ন-১৩. কবে এবং কারা ট্রানজিস্টর তৈরি করেন?
উত্তর: ১৯৪৮ সালে আমেরিকার বেল ল্যাবরেটরিতে উইলিয়াম শকলে, জন বার্ডিন এবং এইচ ব্রিটেন সম্মিলিতভাবে ট্রানজিস্টর তৈরি করেন।
প্রশ্ন-১৪. I.C (আই.সি (ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট)) তৈরি করেন কারা?
উত্তর: টেক্সাস ইন্সট্রুমেন্ট- এর জ্যাক কিলবি ও ফেয়ারচাইল্ড- এর রবার্ট নয়েস ১৯৫৮ সালে আইসি তৈরি করেন।
প্রশ্ন-১৫. কে এবং কবে মাইক্রোপ্রসেসর তৈরি করেন?
উত্তর: ড. টেড হফ ১৯৭১ সালে (প্রথম মাইক্রোপ্রসেসর ইন্টেল- ৪০০৪) মাইক্রোপ্রসেসর তৈরি করেন।
প্রশ্ন-১৬. মাইক্রোকম্পিউটারের জনক কে? কেন তাকে মাইক্রোকম্পিউটারের জনক বলা হয়?
উত্তর: তড়িৎ প্রকৌশলী এইচ এডওয়ার্ড রবার্টসকে মাইক্রোকম্পিউটারের জনক বলা হয়। তিনি ১৯৭৫ সালে অলটেয়ার-৮৮০ নামে প্রথম মাইক্রোকম্পিউটার তৈরি করেন। এজন্য তড়িৎ প্রকৌশলী এইচ এডওয়ার্ড রবার্টসকে মাইক্রোকম্পিউটারের জনক বলা হয়।
প্রশ্ন-১৮. আই.বি.এম (ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস মেসিন) পিসি তৈরি হয় কবে?
উত্তর: ১৯৮১ সালের ১২ আগস্ট থেকে বের হয় পার্সোনাল কম্পিউটার।
প্রশ্ন-১৯. মাইক্রোসফ্ট কবে এবং কারা প্রতিষ্ঠা করেন?
উত্তর: ১৯৭৫ সালের ফেব্র“য়ারি মাসে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়- এর ছাত্র বিল গেটস ও তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ওয়াশিংটন স্টেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পল অ্যালেন ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি-এর জন্য বেসিক প্রোগ্রাম লিখেন। পল অ্যালেন বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করে ম্যাসচুস্টেস ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজিতে যোগদান করলেও বিল গেটস সম্পূর্ণভাবে কম্পিউটার জগতে প্রবেশ করেন এবং ১৯৭৭ সালে মাইক্রোসফ্ট কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠা করেন।
প্রশ্ন-২০. কবে এবং কারা অ্যাপল কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন?
উত্তর: ১৯৭৬ সালে স্টিভ জবস ও স্টিফেন উযনিয়াক মিলে অ্যাপল-১ কম্পিউটার তৈরি করেন। এর পরবর্তী বছরই তারা অ্যাপল কম্পিউটার কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন।
প্রশ্ন-২১. ইন্টারনেটের জনক কে?
উত্তর: ইন্টারনেটের জনক ভিন্টন জি কার্ফ
প্রশ্ন-২৩. ই-মেইল (ইলেকট্রনিক মেইল) এর প্রবর্তন করেন কে?
উত্তর: ১৯৭১ সালে রে টমলিনসন ই-মেইল এর প্রবর্তন করেন।
প্রশ্ন-২৪.জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন গুগলের প্রতিষ্ঠাতা কারা?
উত্তর: ১৯৯৪ সালে সার্গেই ব্রিন ও ল্যারি পেজ জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন গুগল প্রতিষ্ঠা করেন।
প্রশ্ন-২৫. জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগের সাইট ফেইসবুক- এর প্রতিষ্ঠাতা কে?
উত্তর: জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগের সাইট ফেইসবুক- এর প্রতিষ্ঠা করেন মার্ক জুকারবাগ
প্রশ্ন-২৬. সফ্টওয়্যার কি ও কত প্রকার?
উত্তর: কোন সমস্যা সমাধানের জন্য ধারাবাহিক নির্দেশাবলির সমষ্টিকে সফ্টওয়্যার বলে।
সফ্টওয়্যার প্রধানত দুই প্রকার:
* সিস্টেম সফ্টওয়্যার (যেমন: অপারেটিং সিস্টেম) এবং
* অ্যাপ্লিকেশন সফ্টওয়্যার (যেমন: মাইক্রোসফ্ট ওয়ার্ড)।
প্রশ্ন-২৭. ফার্মওয়্যার কি ?
উত্তর: কম্পিউটারকে প্রাথমিকভাবে পরিচালনার জন্য রম-এ স্থায়ীভাবে কিছু তথ্য জমা থাকে, এই তথ্যগুলোকে ফার্মওয়্যার বলে।
প্রশ্ন-২৮. অপারেটিং সিস্টেম কী?
উত্তর: কম্পিউটারের নিজের নিয়ন্ত্রণের জন্য যে প্রোগ্রাম ব্যবহৃত হয় তাকে অপারেটিং সিস্টেম বলে।
যেমন- উইন্ডোজ এক্সপি, উইন্ডোজ ভিস্তা এবং লিনাক্স।
প্রশ্ন-২৯. মাল্টিমিডিয়া কাকে বলে?
উত্তর: কোন বিষয়কে উপস্থাপনের জন্য টেক্সট, অ্যানিমেশন, অডিও এবং ভিডিও এর সমন্বিত রূপকে মাল্টিমিডিয়া বলে।
প্রশ্ন-৩০. কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কাকে বলে?
উত্তর: ডাটা বা রিসোর্স শেয়ার করার উদ্দেশ্যে দুই বা ততোধিক কম্পিউটারের সংযুক্তিকে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বলে।
প্রশ্ন-৩১. ইন্টারনেট কী?
উত্তর: দুই বা ততোধিক ভিন্ন স্ট্যান্ডার্ড-এর নেটওয়ার্ককে মধ্যবর্তী সিস্টেম (যেমন: গেটওয়ে, রাউটার)-এর মাধ্যমে
আন্ত-সংর্যুক্ত করে যে মিশ্র প্রকৃতির নেটওয়ার্কের ডিজাইন করা হয়, তাকে ইন্টারনেট বলে।
প্রশ্ন-৩২. ই-মেইল কী?
উত্তর: ইলেকট্রনিক মেইল এর সংক্ষিপ্ত রূপ ই-মেইল। ই-মেইল এর সাহায্যে ইন্টারনেট ব্যবহার করে দ্রুতগতিতে তথ্য আদান-প্রদান করা যায়। যেখানে সাধারণ ডাকযোগে চিঠি প্রেরণে কয়েকদিন সময় লাগে; সেখানে ই-মেইল এর সাহায্যে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পৃথিবীর যেকোন প্রান্তে তথ্য আদান-প্রদান করা যায়।
প্রশ্ন-৩৩. বাংলাদেশে কত সালে এবং কোথায় প্রথম কম্পিউটার ব্যবহৃত হয়?
উ: ১৯৬৪ সালে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি গবেষণা কেন্দ্রে।
প্রশ্ন-৩৪. বাংলাদেশে অনলাইন ইন্টারনেট সেবা কবে চালু হয়?
উত্তর: বাংলাদেশে অনলাইন ইন্টারনেট সেবা চালু হয় ১৯৯৬ সালের ৪ জুন।
প্রশ্ন-৩৫. কম্পিউটার ভাইরাস কী?
উত্তর: VIRUS এর পূর্ণনাম Vital Information Resource Under Seize । কম্পিউটার ভাইরাস হচ্ছে এক ধরনের অনিষ্টকারী প্রোগ্রাম। ইহা কম্পিউটারের স্বাভাবিক প্রোগ্রামগুলোর কাজে বিঘœ ঘটায়। ১৯৮৮ সালে ফ্রাইড কোহেন কম্পিউটার ভাইরাস শনাক্ত করেন। সোর্স- টেকটিউনস

Monday, May 25, 2015

নাম্বার সিস্টেম পরিবর্তন -এক নাম্বার থেকে অন্য নাম্বার সিস্টেম পরিবর্তন-বাইনারি,অক্টাল ..

নাম্বার সিস্টেম পর্ব ৩ :

এর আগের পোষ্টে নাম্বার সিস্টেম কি উহা কত প্রকার ও কি কি তা বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। আজ এই পোষ্টে আমরা শিখবো কিভাবে এক নাম্বার সিস্টেম থেকে অন্য নাম্বার সিস্টেমে পরিবর্তন করা যায়। 
কম্পিউটার জগত


আমরা জানি কম্পিউটার একটি যন্ত্র বিশেষ । তার নিজস্ব সিধান্ত নেবার কোন ক্ষমতা নেই। আমরা যে ভাবে তাকে পরিচালনা করি ঠিক সেভাবেই চলে। তবে এখন প্রশ্ন হল আমরা কিভাবে এত সহজে কম্পিউটারকে নিয়ন্ত্রণ করি। তার যুক্তিতে আমরা উদাহারন হিসেবে দেখবো - আমরা বাড়িতে যখন বৈদ্যুতিক সুইচ অন (ON) চাপার সঙ্গে সঙ্গে বাতি যেমন জ্বলে উঠে, আবার অফ (OFF) সুইচ চাপলে সাথে সাথে বাতি নিভে যায়। ঠিক এই লজিককে কাজে লাগিয়ে কম্পিউটারকে পরিচালনা করা হয়। এখানে বৈদ্যুতিক সুইচ অন মানে ১ ( এক ) এবং অফ মানে O ( শূন্য ) ধরা হয়।

এটিও পড়ুন - নাম্বার সিস্টেম বা সংখ্যা পদ্ধতি - Number System

এখানে ১ এবং ০ সংখ্যা দুটি বাইনারি নাম্বার সিস্টেমে পেয়ে থাকি। তার মানে কম্পিউটারে কোন কিছু লিখতে বা পড়তে গেলে 110011001000010 এই ভাবে আমাদের পড়তে বা লিখতে হবে। তাহলে কম্পিউটার শিক্ষা সবার পক্ষে সম্ভব হতো না। হ্যাঁ , ঐ ভাবে আমাদের পড়তে বা লিখতে হবে না। প্রোগ্রামারা এই ভাবে পড়া ও লেখা থেকে আমাদের মুক্তি দিয়েছেন। আমরা ১০০+১০০ = ২০০ পাই কিন্তু কম্পিউটার তা বাইনারি সিস্টেম পরিবর্তন করে আমাদের সামনে ২০০ উত্তরটি উপস্থাপন করে।
এটিও পড়ুন - বাইনারি গনিত যোগ বিয়োগ পরিপূরক গণনা (Binary Arithmetic)

নিম্নে এক নাম্বার সিস্টেম থেকে অন্য নাম্বারে পরিবর্তন আলচনা করা হয়েছে । যেমন- বাইনারি থেকে ডেসিম্যাল , ডেসিম্যাল থকে বাইনারি , বাইনারি থেকে অক্টাল বা হেক্সা ডেসিম্যাল ইত্যাদি।      

নাম্বার সিস্টেম পরিবর্তন (Conversion from one system to another) 

বাইনারি থেকে ডেসিমাল মান নির্ণয় (Binary to Decimal)


        বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতিতে লেখা কোনো সংখ্যার মান ডেসিমাল সংখ্যাই পরিবর্তন করতে হলে পূর্ণ সংখ্যার ক্ষেত্রে মূল সংখ্যা গুলিকে তাদের অবস্থান অনুযায়ী 20, 21, 22, 23, 24, 25 অর্থাৎ 1, 2, 4, 8, 16, 32 ( 20=1, 21=2, 22=4, 23=8, 24=16, 25=32ইত্যাদি দ্বারা গুন করার পর যোগ করতে হয়। আবার ভগ্নাংশের ক্ষেত্রে দশমিক বিন্দুর ডানদিকে মূল সংখ্যা গুলিকে তাদের অবস্থান অনুযায়ী 2, 4, 8, 16, 32 ইত্যদি দ্বারা ভাগ করে যোগ করতে হয়

উদাহরণ (পূর্ণ সংখ্যার ক্ষেত্রে) :

1. (110)2 = 1x2+ 1x2+ 0x20
               = 1x4 + 1x2 + 0x1
               = 4+2+0
               = (6)10
 অতএব,
(110)= (6)10

2. (1010)2 = 1x2+ 0x2+ 1x2+ 0x20
                 = 1x8 + 0x4 + 1x2 + 0x1
                 = 8+0+2+0
                 = (10)10
 অতএব,
(1010)= (10)10

উদাহরণ (ভগ্নাংশের ক্ষেত্রে) :

1. (0.101)2 = 1÷2 + 0÷4 + 1÷8
                  = .5 + 0 + .125
                  =(.625)10
 অতএব,
(0.101)= (.625)10

ডেসিমাল থেকে বাইনারি মান নির্ণয় (Decimal to Binary)


        আমরা কাজের ক্ষেত্রে সাধারনত ডেসিমাল সংখ্যাই ব্যবহার করি।
         ডেসিমাল থেকে বাইনারি তে পরিবর্তন করতে গেলে ডেসিমাল সংখ্যাটিকে 2 দ্বারা পরপর ভাগ করে যেতে হয় যতক্ষণ না পর্যন্ত ভাগফল 2 এর নিচে অর্থাৎ 1 অথবা 0 হয়।
        এরপর প্রত্যেক ভাগের ভাগশেষ গুলোকে যথাক্রমে উল্টোদিক থেকে (শেষ ভাগশেষ থেকে প্রথম ভাগশেষ) সাজানো হয়।
         এই উল্টোভাবে সাজানো ভাগশেষ (শেষ থেকে প্রথম) গুলো -ই হল ঐ ডেসিমাল বা দশমিক সংখ্যার বাইনারি রূপ।

উদাহরণ (পূর্ণ সংখ্যার ক্ষেত্রে) :
1.
নাম্বার সিস্টেম
সুতরাং, ডেসিমাল সংখ্যা 13 -এর বাইনারি সংখ্যা হল 1011.

উদাহরণ (ভগ্নাংশের সংখ্যার ক্ষেত্রে) :

         ভগ্নাংশের ক্ষেত্রে ডেসিমাল সংখ্যাটিকে 2 দ্বারা গুন করে যেতে হবে যতক্ষণ না পর্যন্ত সম্পূর্ণ ভগ্নাংশটির মান 0 হয়। যে গুণফল পাওয়া যায় তার পূর্ণসংখ্যাটি একটি বাইনারি মূল সংখ্যা। ঐ পূর্ণসংখ্যাটিকে বাদ দিয়ে আবার ভগ্নাংশটিকে দুই দিয়ে গুন করতে হয়। প্রতিটি গুণফলের পূর্ণসংখ্যাগুলিকে পরপর লিখলেই ভগ্নাংশটির বাইনারি মান পাওয়া যায়।
1. 
.625 x 2 = 1.250 মূল সংখ্যা = 1 এবং ভগ্নাংশ = .25
.25 x 2 = 0.5 মূল সংখ্যা = 0 এবং ভগ্নাংশ = .5
.5 x 2 = 1.0 মূল সংখ্যা = 1 এবং ভগ্নাংশ = .0

অতএব, (.625)10 = (.101)2

সুতরাং, ডেসিমাল সংখ্যা .625 -এর বাইনারি সংখ্যা হল .101.

ডেসিমাল থেকে অক্টাল মান নির্ণয় (Decimal to Octal)


        ডেসিমাল সংখ্যা থেকে অক্টাল সংখ্যায় পরিবর্তন করতে গেলে ডেসিমাল সংখ্যাটিকে পরপর 8 দ্বারা ভাগ করে যেতে হয়। যতক্ষণ না পর্যন্ত ভাগফল 8 সংখ্যার নীচে হয়। এরপর প্রত্যেক ভাগের ভাগশেষগুলিকে উল্টোদিক থেকে সাজালেই ডেসিমাল সংখ্যাটির অক্টাল মান পাওয়া যায়।

উদাহরণ :
নাম্বার সিস্টেম

অতএব, (236)10 = (354)8

অক্টাল থেকে ডেসিমাল মান নির্ণয় (Octal to Decimal)


         অক্টাল সংখ্যার ডেসিমাল মান বের করতে গেলে পূর্ণসংখ্যার ক্ষেত্রে মূল সংখ্যা গুলিকে তাদের অবস্থান অনুযায়ী 80, 81, 82, 83, 84 (অর্থাৎ 1, 8, 64, 512, 4096) ইত্যাদি দ্বারা গুণ করার পর যোগ করতে হয়।
         ভগ্নাংশের ক্ষেত্রে মূল সংখ্যা গুলিকে দশমিক বিন্দুর ডানদিকের অবস্থান অনুযায়ী 8, 64, 512, 4096 ইত্যাদি দ্বারা ভাগ করে যোগ করতে হয়।

উদাহরণ :
(354)8 = 3x82 + 5x81 + 4x80
           = 3x64 + 5x8 + 4x1
           = 192+40+4
           = (236)10
            
অতএব, (354)8 = (236)10

বাইনারি থেকে অক্টাল মান নির্ণয় (Binary to Octal)

             
         বাইনারি সংখ্যা থেকে অক্টাল সংখ্যায় রূপান্তর করার জন্য প্রথমে বাইনারি সংখ্যা থেকে ডেসিমাল সংখ্যা রূপে প্রকাশ করতে হবে। এরপর ডেসিমাল সংখ্যা কে অক্টাল সংখ্যায় রূপান্তর করতে হবে।

উদাহরণ :
 (1010)2 = 1x2+ 0x2+ 1x2+ 0x20
              = 1x8 + 0x4 + 1x2 + 0x1
              = 8+0+2+0
              = (10)10

অতএব,
(1010)= (10)10
প্রথমে বাইনারি সংখ্যাটিকে ডেসিমাল সংখ্যায় রূপান্তরিত করা হল।
নাম্বার সিস্টেম
অতএব,
(10)10 = (12)8
এরপর ডেসিমাল সংখ্যাটিকে অক্টাল সংখ্যায় রূপান্তরিত করা হল।

এখন, 1010 বাইনারি সংখ্যাটির অক্টাল মান হল 12.
অতএব,
(1010)= (12)8

অক্টাল থেকে বাইনারি মান নির্ণয় (Octal to Binary):

            
         অক্টাল সংখ্যা থেকে বাইনারি সংখ্যায় পরিবর্তন করতে গেলে প্রথমে অক্টাল সংখ্যা কে ডেসিমালে এবং ঐ ডেসিমাল সংখ্যা কে বাইনারিতে রূপান্তর করতে হবে।

উদাহরণ :
(101)8 = 1x82 + 0x81 + 1x80
            = 1x64 + 0x8 + 1x1
            = 64+0+1
            = (65)10

অতএব,
(101)8 = (65)10
প্রথমে অক্টাল সংখ্যাটিকে ডেসিমাল সংখ্যায় রূপান্তরিত করা হল।
নাম্বার সিস্টেম

অতএব,
(65)10 = (1000001)2
এরপর ডেসিমাল সংখ্যাটিকে বাইনারি সংখ্যায় রূপান্তরিত করা হল।

সুতরাং, 101 অক্টাল সংখ্যার বাইনারি মান হল 1000001.

অতএব,
(101)8 = (1000001)2


ডেসিমাল থেকে হেক্সাডেসিমাল মান নির্ণয় (Decimal to Hexadecimal):


        ডেসিমাল সংখ্যা থেকে হেক্সাডেসিমাল সংখ্যায় পরিবর্তন করতে গেলে ডেসিমাল সংখ্যাটিকে পরপর 16 দ্বারা ভাগ করে যেতে হয়। যতক্ষণ না পর্যন্ত ভাগফল 16 সংখ্যার নীচে হয়। এরপর প্রত্যেক ভাগের ভাগশেষগুলিকে উল্টোদিক থেকে সাজালেই ডেসিমাল সংখ্যাটির হেক্সাডেসিমাল মান পাওয়া যায়।

উদাহরণ :
নাম্বার সিস্টেম
অতএব, (5259)10 = (148B)16

এখন এখানেই, প্রবর্তিতে কম্পিউটারের লজিক ডায়াগ্রাম নিয়ে আলচনা করা হবে । ততক্ষণে সঙ্গে থাকুন। আর হ্যাঁ কোন সমস্যা হলে বলতে ভুলবেন না জেন। ধন্যবাদ ...

Thursday, February 19, 2015

নাম্বার সিস্টেম বা সংখ্যা পদ্ধতি - Number System

নাম্বার সিস্টেম (Number System)

গনার ইতিহাস চর্চা করলে আমরা দেখতে পাই অতীতকালের মানুষ নিজের আঙুল অথবা নুড়ি ও পাথরের সাহায্যে গুহার গায়ে আঁকা কেটে গণনা করত। সভ্যতার উন্নয়নের সাথে সাথে মানুষ গনার বিভিন্ন পদ্ধতি আবিষ্কার করলো। এই গনার পদ্ধতিকে দুইভাবে ভাগে ভাগ করতে পারি। যথা- 
  1. Non-Positional Number System ( নন- পজিশনাল নাম্বার সিস্টেম )
  2. Positional Number System ( পজিশনাল নাম্বার সিস্টেম )
এটিও পড়ুন- কম্পিউটার থেকে কিভাবে চোখকে সুরক্ষিত রাখবেন ? New !!

Non-Positional Number System (নন- পজিশনাল নাম্বার সিস্টেম) 

প্রচিন কালে মানুষ গনার জন্য গুহার গায়ে আঁকা কেটে গণনা করতো। এই প্রকার গনার ক্ষেত্রে সংখ্যার মান তার অবস্থানের ওপর নির্ভর করে না। তাই এই প্রকার সংখ্যা পদ্ধতিকে Non-Positional Number System ( নন- পজিশনাল নাম্বার সিস্টেম ) বলে।
যেমন-
  • ১ এর জন্য  I
  • এর জন্য  II
  • ৩ এর জন্য  III
  • ৪ এর জন্য  IIII
  • ৫ এর জন্য  IIIII
  • ৬ এর জন্য  IIIIII

Positional Number System (পজিশনাল নাম্বার সিস্টেম)  

এই প্রকার Number system এর ক্ষত্রে কতগুলি চিহ্ন ও সংখ্যা ব্যবহৃত হয়। অনেকগুলি সংখ্যা পরপর একত্রিত হয়ে একটি সঠিক মানের সংখ্যা গঠন করে এবং প্রত্যেকটি সংখ্যার মান তার অবস্থানের ওপর নির্ভর করে।
যেমন- 234 এই সংখ্যাটি 2,3 ও 4 দ্বারা গঠিত।
এই সংখ্যাটিকে 324,432,342 ইত্যদি ভাবে লিখতে পারি। এতে সংখ্যাটির মানের পরিবর্তন হয়।    
  • যে নাম্বার সিস্টেমে অঙ্কের অবস্থান পরিবর্তন করলেই সংখ্যাটির মানের পরিবর্তন হয় তাকে Positional Number System (পজিশনাল নাম্বার সিস্টেম) বলে।  


বর্তমানে প্রায় সমস্ত গনার কাজে Positional Number System (পজিশনাল নাম্বার সিস্টেম) ব্যবহার করা হয়।
    

কম্পিউটারে সংখ্যা প্রকাশ করার জন্য মূলত চারতিভাগে সংখ্যা পদ্ধতি ভাগ করা হয়।
যথা --
  • দশমিক সংখ্যা পদ্ধতি (Decimal Number system)
  • বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতি (Binary Number System)
  • অক্টাল সংখ্যা পদ্ধতি (Octal Number System) এবং
  • হেক্সাডেসিমাল সংখ্যা পদ্ধতি (Hexadecimal Number System) 

বাইনারি নাম্বার সিস্টেম (Binary Number System) :

               
             বাইনারি নাম্বার সিস্টেম বা বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতিতে কেবলমাত্র দুটি মূল সংখ্যা ব্যবহার করা হয় -- 0 এবং 1। সেই জন্য এই নাম্বার সিস্টেম-এর বেস (Base) হল 2. এই নাম্বার সিস্টেম এ 0 এবং 1 ছাড়া অন্য কোনো সংখ্যার ব্যবহার হয় না। দুটি মূল সংখ্যা 0 এবং 1 কে বলা হয় বাইনারি ডিজিট (Binary Digits) বা বিট (Bit)। ৮ টি বিট কে একসাথে বলা হয় বাইট (Byte) এবং ৪ টি বিট কে একসাথে বলা হয় নিবিল (Nibble)। 

            বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতিতে কোনো পূর্ণসংখ্যা কে পরপর কতকগুলি 0 এবং 1 দিয়ে প্রকাশ করা হয়। যেমন - 1010, 1001, 0000, 0001 ইত্যাদি।

            আবার বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতিতে কোনো ভগ্নাংশ কে প্রকাশ করার জন্য দশমিক বিন্দুর পরে ডিজিট গুলি লেখা হয়। যেমন - 0.1011, 0.111 ইত্যাদি।

  ডেসিমাল নাম্বার সিস্টেম (Decimal Number System) :


               ডেসিমাল নাম্বার সিস্টেম বা ডেসিমাল সংখ্যা পদ্ধতিতে মোট দশটি সংখ্যা আছে --- 0, 1, 2, 3, 4, 5, 6, 7, 8, এবং 9. এই নাম্বার সিস্টেম -এর বেস (Base) হল 10. ডেসিমাল সংখ্যার উদাহরন হল পূর্ণসংখ্যা : 2354, 10101, 1234 এবং ভগ্নাংশ : 0.111, 0.3521 ইত্যাদি।

             কোনো পূর্ণসংখ্যার একেবারে বামদিকে যে সংখ্যাটি থাকে তাকে বলা হয় Most Significant Digit বা MSD এবং একেবারে ডানদিকে যে সংখ্যাটি থাকে তাকে বলা হয় Least Significant Digit বা LSD.
নাম্বার সিস্টেম

 অক্টাল নাম্বার সিস্টেম (Octal Number System):

          অক্টাল নাম্বার সিস্টেম বা অক্টাল সংখ্যা পদ্ধতিতে আটটি (8) মূল সংখ্যা ব্যবহার করা হয়। সংখ্যাগুলি হল  0, 1, 2, 3, 4, 5, 6, এবং 7. এই সংখ্যা পদ্ধতির বেস হল 8 (Eight). উদাহরন - 1001, 2541 ইত্যাদি।
নাম্বার সিস্টেম

  হেক্সাডেসিমাল নাম্বার সিস্টেম (Hexadecimal Number System) :

          হেক্সাডেসিমাল নাম্বার সিস্টেম বা হেক্সাডেসিমাল সংখ্যা পদ্ধতিতে ষোল (16)-টি মূল সংখ্যা ব্যবহার করা হয়। তাই এই নাম্বার সিস্টেম-এর বেস হল 16 (Sixteen). এই ষোল (16)-টি সংখ্যা হল 0, 1, 2, 3, 4, 5, 6, 7, 8, 9, A, B, C, D, E এবং F. এখানে A, B, C, D, E এবং F হল সংখ্যা অক্ষর না।

              A=10, B=11, C=12, D=13, E=14 ও F=15.

           হেক্সাডেসিমাল সংখ্যার উদাহরন হল পূর্ণসংখ্যা : BCA, 10101, 1234, 52D4 এবং ভগ্নাংশ : 0.F41 ইত্যাদি
নাম্বার সিস্টেম

Tuesday, November 11, 2014

ডস এর গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারনাল কম্যান্ড ( Internal Command)

কিভাবে DOS ওপেন করতে হয়? ডস শিক্ষার পর্ব -২

প্রথমে Start অপশনে ক্লিক করুন। এরপর  Run এর ক্লিক করুন। এরপর Open বক্সে cmd টাইপ করুন তারপর এন্টার চাপুন । অথবা Win + R চাপুন তারপর Open বক্সে CMD টাইপ করুন। দেখবেন নিচের মতো স্কিন দেখতে পাবেন।
DOS

DOS এর আভ্যন্তরীণ নির্দেশ ও তার ব্যবহার ( Internal Command):

১। DATE
syntax:-Date [MM-DD-YY]
এই  কম্যান্ডটি System এর বর্তমান তারিখ দেখায়। এছারা এই কম্যান্ড দ্বারা তারিখ পরিবর্তন করা যায়।
উদাহরণঃ C:\>Date (Enter)
২। Time
syntax:-Time [hh-mm-ss]
এই  কম্যান্ডটি System এর বর্তমান সময় দেখায়। এছারা এই কম্যান্ড দ্বারা সময় পরিবর্তন করা যায়।
উদাহরণঃ C:\>Time (Enter)
৩। Vol (Volume)
syntax:-Vol [Drive]
এই  কম্যান্ডটি System এর ডিস্কের Volume Label Name দেখতে পাওয়া যায়।
উদাহরণঃ C:\>Vol (Enter)
৪। CLS(Clear Screan)
syntax:-Cls 
এই  কম্যান্ডটি সাহায্যে কম্পিউটারে স্কিন পরিষ্কার করা যায়।
উদাহরণঃ C:\>CLS (Enter)

৫। MD বা MKDIR (Made Directory)
syntax:-MD [drive :] New Subdirectory Name
এই  কম্যান্ডটি সাহায্যে ডিরেক্টরি বা সাব-ডিরেক্টরি তৈরি করা যায়।
উদাহরণঃ C:\>MD  Newdir (Enter) 
                 C:\> Computerjajot (Enter)
Note-Newdir বা computerjajot নামক ডিরেক্টরি তৈরি করা যায়।
৬। CD বা CHDIR (Change Directory)
syntax:-CD Subdirectory Name
এই  কম্যান্ডটি সাহায্যে ডিরেক্টরি বা সাব-ডিরেক্টরির মধ্যে প্রবেশ করা যায়।
উদাহরণঃ C:\>CD Newdir (Enter)
Note-Newdir নামক ডিরেক্টরিতে প্রবেশ করা যায়।
৭। RD  (Remove Directory)
syntax:-RD Subdirectory Name
এই  কম্যান্ডটি সাহায্যে ডিরেক্টরি বা সাব-ডিরেক্টরির ডিলিট (Delete) করা যায়।
উদাহরণঃ C:\>RD Newdir (Enter)

৮। VER (Verson)
syntax:-Ver [Drive]
এই  কম্যান্ডটি অপারেটিং System এর নাম ও ভার্সন( সংস্করণ )  দেখতে পাওয়া যায়।
উদাহরণঃ C:\>Ver (Enter)
৯। Copy Con
syntax:-Copy Con [New File Name]
এই  কম্যান্ডটি নতুন ফাইল তৈরি করা যায় ।
উদাহরণঃ C:\> Copy con computerjajot (Enter)
Note- Computerjajot ফাইল নেম।
১০। Type
syntax:-Type [File name]
এই  কম্যান্ডটি দ্বারা কোন ফাইল কে ওপেন করা যাবে। এবং ঐ ফাইলের ভিতর কি কি লেখা আছে তা দেখা যাবে।
উদাহরণঃ C:\>Type computerjajot (Enter)
১১। REN (Rename)
syntax:-Ren [ Old file name New file name]
এই  কম্যান্ডটি ব্যবহার করে পুরনো ফাইলের নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম করন করা যায়।
উদাহরণঃ C:\>Ren Computerjajot Desktop  (Enter)

১২। DEL বা Delete
syntax:-DEL [ File name]
এই  কম্যান্ডটি ব্যবহার করে কোন ফাইল ডিলিট (মুছে দেওয়া) করা যায়।
উদাহরণঃ C:\>Ren Computerjajot Desktop  (Enter)

১৩। DIR(Disk Information Report)
Syntex: DIR [Drive:]
এই কমান্ডের সাহায্যে কম্পিউটার ডিস্কে উপস্থিত সমস্ত ফাইল, ডিরেক্টরি ও সাব-ডিরেক্টরি নামের সুচি (list) দেখা যায়।
উদাহরণ-
                 Dir/P - Pagewise ডিস্কের ফাইলগুলি দেখতে পাওয়া যাবে।
                 Dir/W - Widthwise ডিস্কের ফাইলগুলি দেখতে পাওয়া যাবে।
                 Dir/H - ডিস্কে উপস্থিত হিডেন ফাইলগুলি দেখতে পাওয়া যাবে।
নেক্সট পোস্ট- ডস এর ইন্টারনাল ও এক্সটারনাল এর বাকি কম্যান্ড গুলি আলোচনা করা হবে।
এটিও জানুন- Microsoft Power Point কি? জেনে নিন পাওয়ার পয়েন্টের অজানা কিছু তথ্য
কোন সমস্যা হলে অবশ্যই কমেন্ট করবেন। কেমন লাগলো জানাবেন। ভালো লাগলে শেয়ার করে বন্ধুদের জানাবেন । ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন ধন্যবাদ।